শিব্বির আহমদ রানা : সকালে সূর্য উঠার সাথে সাথে ব্যস্থ হয়ে পড়ে বাঁশখালী উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের মুলা চাষিরা। যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন উন্নত না থাকায় চাষীরা পাহাড় থেকে মুলা তুলে কাঁধে করে নিয়ে আসেন স্থানীয় বাজারে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় মুলার বাম্পার ফলন হয়েছে। পাহাড়ে আগাম মুলা চাষ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরেও মুলার ব্যাপক ফলনে কৃষকের মুখে ফুটে উঠছে হাসি। পাহাড়ি এলাকার অধিকাংশ কৃষকই হাইব্রীড জাতের মুলাচাষের প্রতি ঝুকে পড়েছে। উপজেলার জলদী পৌর এলাকার পূর্বে বিশাল বিস্তৃত পাহাড়ী জায়গায় ঢালু জমিতে বৈশাখ মাসের শুরুতেই মুলা চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করে চাষিরা। এখানে ৫শতাধিক চাষী মুলাচাষের সাথে সম্পৃত্ত আছে।

উপজেলার মুলাচাষী উত্তম কুমার দে, মো. সাহেদ হোসেন, সাঈদ, জাকিরসহ বেশ কয়েকজনেরর সাথাে কথা বলে জানা যায়, “উপজেলার পূর্বে পাহাড়ে প্রচুর জায়গা। মুলাচাষের উপযোগী করে আমরা জ্যৈষ্ঠমাসে হাইব্রীড জাতের মুলার বীজ রোপন করি। বিশেষ করে কেডিএস জাতের মুলা রোপনের দিন থেকেই ৪০-৪৫ দিনের মধ্যেই বিক্রির উপযোগী হয়। সাধারণ শ্রমিকের মজুরী ৭শত থেকে ৮শত টাকা, এতে প্রতি কানি জমিতে মুলাচাষে শ্রমিকের খরচসহ ৪০-৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মুলাচাষ করে চাষীরা দ্বীগুন লাভ পাই। গত বছরের তুলনায় এবছর মুলার ফলন বেশী হওয়ায় দ্বীগুনের বেশী লাভ পাবো বলে আশা করছি। তাছাড়া আমাদের মুলার দেশীয় পাইকারের সমাগম রয়েছে।” আগাম মুলাচাষের জন্য বিশেষ করে বাঁশখালীর পুর্ব দিকের পাহাড়ি এলাকা খুবই উপযোগী। পৌরসভার মিয়ার বাজার এলাকায় প্রতিদিন সকালে বসে মুলার পাইকারী বাজার। প্রতিদিন ২শত থেকে আড়াইশত মুলার ভার বাজারে আসে। এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা এসে পাইকারী হিসাবে মুলা ক্রয় করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে থাকে। চকোরিয়া, কক্সবাজার সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকারগণ পাইকারীদামে মুলা ক্রয় করে। তবে বাজারে মুলা এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকায় প্রতিকেজি পাওয়া যায়। মুলার পাইকারী মুল্য ভারপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। এদিকে চলতি মৌসুমে বাঁশখালী পৌরসভার উত্তর জলদী চুম্মার পাড়া পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর পরিমান মুলা উৎপাদন হয়েছে। তাছাড়াও শীলকুপের টাইম বাজার, চাম্বল বাজার, পুঁইচড়ি প্রেমবাজার, কালীপুরের সদর আমিন হাট, বৈলছড়ি কেবি বাজার, পুকুরিয়ার চৌমহনী বাজারসহ প্রতিদিন সকালে বসে মুলার পাইকারি বাজার। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকজন মুলা চাষিরা জানান, তারা উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে আধুনিক পদ্ধতিতে মুলা চাষ করেছে। যার ফলন হয়েছে অনেক এবং দাম পেয়েছেন ভালো। অন্যন্য সময়ে সবজি উৎপাদনে প্রাকৃতিক আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকলেও এসময় পাহাড়ে সবজি উৎপাদনে তেমন ঝুকি থাকেনা।

মুলার বাম্পার ফলনের বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বাঁশখালীতে বর্তমানে পাহাড়ী জমিতে মুলার ব্যাপক চাষ হয়েছে। হাইব্রীড জাতের মুলার আগাম চাষের ফলে বাঁশখালীতে মুলার বাম্পার ফলনে চাষীরা তাদের ন্যায্য মূল্য পেয়ে খুশি। তাছাড়া আমরা বাঁশখালীতে কৃষকদের নানা প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করি।

জলদী মিয়ার বাজারে মুলাচাষীদের ভীড়, চলছে দরকষাকষি