বাঁশখালী নিউজ ডেস্কঃ 

বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জলকদর খালের উপর স্থাপিত চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন বাঁশখালীর চাম্বল ইউপি’র বাংলা বাজার ঘাটের ইজারার টোল আদায়ের নামে চলছে চাঁদাবাজি।

জেলা পরিষদ কর্তৃক ওই ঘাটের টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইজারা প্রদান বা স্ব উদ্যোগে টোল নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সরকারী ভাবে ঘাটের ইজারাদার না থাকায় স্থানীয় পশ্চিম চাম্বল যুব উন্নয়ন সমিতির ব্যানারে ও জেলা প্রশাসনের নামে ভূয়া রশিদ প্রদানের মাধ্যমে কতিপয় উশৃঙ্খল যুবক ফিশিং বোট ও জেলেদের কাছ থেকে ওই ঘাটের টোল আদায় করে যাচ্ছে প্রতিদিন।

এদিকে স্থানীয় কতিপয় যুবক দ্বারা টোল আদায় করায় ফিশিং বোট মালিক ও জেলেদের সাথে টোল আদায়কারীদের সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিয়েছে। যেকোন মুহুর্তে ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। তাছাড়া ওই ঘাটের ইজারা বাবদ সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ্য টাকা রাজস্ব।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৬ আগষ্ট) স্থানীয় ফিশিং মালিক সমিতি ও জেলে সম্প্রদায়ের পক্ষ হতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এদিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কর্তৃক বাংলা বাজার ঘাটের টোল আদায়ের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), বাঁশখালীকে পত্র প্রেরণ করেছে।

জেলা প্রশাসকের পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল হক মৃদুল জানান, টোল আদায়ের জন্য চাম্বল ইউনিয়নের তহশীলদারকে লিখিত দায়িত্বও প্রদান করা হয়েছে। টোল আদায়ের বিষয়ে বিস্তারিত তহশীলদারের কাছ থেকে বর্ণনা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার স্থানীয় কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শীঘ্রই বাংলা বাজার ঘাটের টোল আদায়ের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া যদি সরকারি নাম ভাঙিয়ে কোন ব্যক্তি টোল আদায় করে থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

বাংলাবাজার ফিশিং বোট মালিক সভাপতি হেফাজ উদ্দীন বলেন, দীর্ঘদিন বাংলা বাজার ঘাট নিয়ে জেলা পরিষদ ও স্থানীয় মোঃ বারেক নামে এক ব্যক্তির সাথে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকায় টোল আদায় বিরত ছিল।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ওই ঘাটের টেন্ডার না দেওয়ায় কোন ইজারাদার নেই। তাছাড়া আমাদের ফিশিং বোট মালিক ও জেলে সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ওই ঘাটের ইজারা বিলুপ্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে। এদিকে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলেও কতিপয় সন্ত্রাসী আমাদের কাছ থেকে জেলা পরিষদের নাম ভাঙিয়ে অতিরিক্ত টোল আদায়সহ নানা হয়রানি করে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। তাছাড়া এ বিষয়ে অতি শ্রীঘ্রই প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তিনি।