বাঁশখালীর উপকূলীয় সমুদ্র সৈকত দিন দিন সাধারণ পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। প্রতিদিন সকালে অথবা বিকেলে অসংখ্য লোকের আনাগোনায় মুখরিত থাকে উপকূলীয় এলাকা। বিশেষ করে বাঁশখালীর খানখানাবাদ, বাহারছড়া, গন্ডামারা ও ছনুয়া বঙ্গোপসাগর অংশে সারি সারি ঝাউবাগান যে কারো নজর কাড়ে। সবচেয়ে বেশী লোকের আনাগোনা হয় বাহারছড়া অংশে। বর্তমানে বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ সংস্কারের কার্যক্রম চলছে। এই বেড়িবাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকাকে পর্যটন স্পটে রূপান্তরিত করলে সরকার রাজস্বসহ বহুমুখী লাভবান হবে। এমনকি কক্সবাজারে যে পর্যটকদের চাপ তা থেকে চট্টগ্রামের পর্যটকরা বাঁশখালী অংশে এসে কক্সবাজারের স্বাদ নিতে পারবে।

বাঁশখালীর উপকূলে সুদীর্ঘ ৩৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সমুদ্র সৈকত বিস্তৃত। সারি সারি ঝাউবাগান ও বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক হাওয়া উপভোগ করতে এখানে প্রতিনিয়ত পর্যটকদের আনাগোনা দেখা যায়। বর্তমানে আনন্দ ভ্রমণ কিংবা পিকনিক স্পটের বিকল্প হিসেবেও পর্যটকরা বেছে নিয়েছে এ অঘোষিত পর্যটন স্পটকে। বাঁশখালীর পূর্ব দিকে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে পাহাড় এবং পশ্চিম দিকে রয়েছে বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী উপকূলীয় সুদূর প্রসারী সমুদ্র চর। এখানে রয়েছে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পর্যটন স্পট। বর্তমানে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা প্রতিনিয়ত কক্সবাজারের ন্যায় এখানে এসে ভিড় জমান। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু, মোরা ও আইলার মত অসংখ্য দুর্যোগের কবলে পড়ে বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকার বেশ কিছু ঝাউবাগান এবং প্যারাবন নষ্ট হয়ে যায়। সেগুলো পুনরায় সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করলে একদিকে উপকূলীয় বন বিভাগের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি পাবে, অপরদিকে আগত পর্যটকদের প্রশান্তির জায়গা সৃষ্টি হবে। বাঁশখালীর ছনুয়া থেকে শুরু করে গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া ও খানখানাবাদ এলাকার বিশাল সমুদ্র সৈকতে সারি সারি ঝাউবাগান যে কারো নজর কাড়ে। কিন্তু বঙ্গোপসাগরের অথৈ জলরাশি ঢেউয়ের তোড়ে প্রতিদিন ভেঙে পড়ছে ওই সব ঝাউবাগান (প্যারাবন)। বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকা বাহারছড়া ইলশা অংশে এক সময় বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ও ব্যবস্থাপনা সংরক্ষণ বিভাগের উদ্যোগে ইকোসেট সহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে তা উপকূলীয় বনবিভাগের অধীনে রয়েছে। বাঁশখালীর উপকূলজুড়ে বর্তমানে বেড়িবাঁধ নির্মাণের যে মহোৎসব চলছে সেটার সাথে যদি উপকূলীয় এলাকাকে পর্যটন স্পট করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় তাহলে তা দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপকূলীয় বনবিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, উপকূলকে পর্যটন স্পটে রূপান্তর এবং বিচ্ছিন্ন এলাকাজুড়ে ঝাউবাগান ও প্যারাবন সৃষ্টির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সমূহ প্যারাবনের নানাবিধ ক্ষতিসাধন করে থাকে। উপকূলীয় এলাকাকে পর্যটন স্পট করার ব্যাপারে জানতে চাইলে বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের পৃষ্টপোষকতায় বাঁশখালীর উপকূলজুড়ে পর্যটন স্পটে রূপান্তর করার জন্য বাঁশখালীর সাংসদ আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আশা করছি তা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।

এদিকে বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকায় ঝাউবন ও ম্যানগ্রোভ বন সৃজনের জন্য দীর্ঘদিন থেকে নানাভাবে বনবিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। ফলে বিগত দিনে সৃজিত ঝাউবন যেখানে রয়েছে সেখানকার উপকূলীয় এলাকা অনেক মজবুত রয়েছে। বিশেষ করে বাঁশখালীর খানখানাবাদ, বাহারছড়া, সরল, গন্ডামারা ও ছনুয়া এলাকার উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন জরুরী হয়ে পড়েছে। একদিকে বনায়নের জন্য যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ না থাকা, অন্যদিকে যথাযথ তদারকি ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার অভাবে বনায়নকৃত এলাকায় গাছ সংরক্ষণ না হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে এই উপকূলীয় নয়নাভিরাম ঝাউবাগান।

বাঁশখালীর পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে শীলকূপে অবস্থিত ইকোপার্ক, পুকুরিয়ার চা–বাগান ও উপকূলীয় এই ঝাউবন বেষ্টিত সমুদ্র সৈকত উল্লেখযোগ্য। অথচ এসব পর্যটন স্পটগুলোর যথাযথ সংস্কার, তদারকি ও ভালভাবে যাতায়াত ব্যবস্থা করা হলে দেশের রাজস্ব আয়েও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে এই পর্যটন স্পটগুলো। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অসংখ্য পর্যটকদের একটাই দাবি এসব পর্যটন স্পটগুলো যাতে অবিলম্বে সংস্কার করা হয়।


বাঁশখালীর সম্ভাবনাময় উপকূলীয় এলাকা ঘুরে এসে মোঃ জাহাঙ্গীর হোছাইন(সামিত)।