ক্যমেরার চোখে তারেক পার্ক

চট্টগ্রামের দক্ষিণ বাঁশখালী নাপোড়া অর্গানিক ইকো ভিলেজ  ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের মনকাড়া সেরা পর্যটক স্পটের হাতছানি দিচ্ছে। প্রতিদিন প্রতিনিয়ত ভ্রমণ পিপাসুরা স্বজন কিংবা প্রিয়জনকে নিয়ে উঁকি দিয়ে আসছে পাহাড় বেষ্টিত চিরসবুজ বনানীতে ঘেরা এই পার্কে। যথেষ্ট বিনোদন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার মতো পরিবেশ এখানে দৃশ্যমান। সাজ সকালে বন মোরগের হাক ডাক, সন্ধ্যার পড়ন্ত বিকেলে সূর্য ডোবার সাথে সাথে পাখপাখালির কিচিরমিচির শব্দ সব মিলিয়ে অপূর্ব প্রাকৃতিক ছন্দমেলার যেনো এক এলাহিকাণ্ড। মন মাতানোর প্রাকৃতিক সব আয়োজন বাঁশখালী নাপোড়া অর্গানিক ইকো ভিলেজ  । বিশাল জায়গা জুড়ে বিনোদনের হাতছানি লক্ষ্য করা যায় এই সম্ভাবনার বিনোদন স্পটে।

– প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানাচ্ছেন শিব্বির আহমেদ রানা



ময়ূর যেখানে পেখম মেলে আনন্দ দেয়্য- ছবি প্রতিবেদক

বাঁশখালীর ঐতিহ্যবাহী মরহুম মাষ্টার নজির আহমদ পরিবারের একান্ত উদ্যোগে পরিবেশবান্ধব ইকো ট্যুরিজমে রুপান্তরিত হতে যাচ্ছে নাপোড়া অর্গানিক ইকো ভিলেজ। যার একমাত্র স্লোগান-“Building a beautiful earth together” সুন্দর পৃথিবীর জন্য আমরা সকলেই। মাষ্টার নজির আহমদ পরিবারের সুযোগ্য কনিষ্ঠ পুত্র তারেকুর রহমান তার একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন- আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। যার মধ্যে নাপোড়া কে বাঁশখালীর তথা সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে (Healthy Village) তথা স্বাস্থ্যসম্মত গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলা। আমাদের দেশে বিরুপ পরিবেশের কারণে বিলুপ্ত হতে যাওয়া বন্য প্রাণী সংরক্ষণ করা। দেশীয় বৃক্ষ সংরক্ষন তথা Tree preservation এর মাধ্যমে সামাজিক বনায়ন গড়ে তোলা। এ ক্ষেত্রে দেশজ বৃক্ষ সংরক্ষণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বোটানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের গবেষকদের সহায়তা নিবো। অর্গানিক এগ্রিকালচার (জৈব চাষ) প্র্যাকটিস এর পরিকল্পনা আছে আমাদের। ভবিষ্যৎতে আন্তর্জাতিক মানের পের্মাকালচার ইনস্টিটিউট স্থাপন করার পরিকল্পনা আছে। তিনি বলেন, আপনারা হয়তো জানেন এখনো আমাদের অবহেলিত গ্রাম বাংলার জনপদে শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের সংখ্যা অনেক। তাই Organic Village এর অধীনে শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষাপ্রতিষ্টান স্থাপন করা হবে। সামাজিক ব্যবসায় নীতি চালুর পরিকল্পনাও আমাদের আছে। যাতে করে এতদাঞ্চলের লোকেরা সম্পদের উৎপাদন কার্যক্রম ও সুষম বন্টনের মাধ্যমে এলাকার সকলেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি লাভ করবে।

আমাদের একমাত্র উদ্যেশ্য আমরা নাপোড়া অর্গানিক ইকো ভিলেজের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বাঁশখালীকে ,বাংলাদেশ তথা অান্তর্জাতিক পর্যায়ে শ্রেষ্ট পর্যটনস্পটে পরিচিত করা। তারেকুর রহমান বলেন, এখানে অদূর ভবিষ্যতে অান্তর্জাতিক মানের মিউজিয়াম গড়ে তোলা হবে। যেখানে স্থান পাবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শ্রেষ্ট কবি, সাহিত্যিক ঐতিহাসিক কিংবদন্তীদের ভাষ্কর্য। ইকো ভিলেজের অধীনে জীববৈচিত্র সংরক্ষণ করা হবে। হারিয়ে যাওয়া দেশীয় ঐতিহ্য সংরক্ষন করার পরিকল্পনা আছে আমাদের। বাঁশখালীর নাপোড়া হবে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র অান্তর্জাতিক মানের ট্যুরিজম স্পট স্বাস্থ্যসম্মত ইকো ভিলেজ। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বেশ পরিচিতি লাভ করবে নাপোড়া অর্গানিক ইকো ভিলেজ। আর আমরা এভাবেই এগুচ্ছি। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শ্রেষ্ট পর্যটন স্পট হিসেবে রুপ দিতে যাচ্ছে নাপোড়া অর্গানিক ইকো ভিলেজ। যা নাপোড়া অর্গানিক ইকোট্যুরিজম হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

আমরা ইকো ভিলেজের মাধ্যমে অনেক প্রাণীকে অবমুক্তি দিয়েছি। শিকারিদের হাত থেকে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে এতদাঞ্চলে পশু শিকারী প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে। সর্বোপরি প্রাকৃতিক সমৃদ্ধ পরিবেশ ও সমৃৃদ্ধ স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিৎ করার লক্ষ্যে নাপোড়া অর্গানিক ইকো ভিলেজ কাজ করে যাবে। এখানে বন্য প্রাণীদের কে খাদ্য সরবরাহ করা হয় নিয়মিত। তবে তাদেরকে খাঁচায় অাবদ্ধ না রেখেই ছেড়ে দেওয়া হয়। মাঝে মধ্যে এদের দেখা পড়ে দর্শনার্থীদের চোখে। দেশীয় বৃক্ষ সংগ্রহের জন্য আমরা ইতোমধ্যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি, বৃক্ষ সংগ্রাহশালা কিংবা মিউজিয়াম গড়ে তোলা হবে। গ্রামীণ সংস্কৃতির, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটা সংগ্রহশালা হবে ইকো ভিলেজের অধীনে।


বর্তমানে এই পার্কে বিরল প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। বন মোরগ, কাছিম, হরিণ, বানর,উট পাখি, ময়ূর, অজগর সাপ সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখপাখালী অবমুক্তি অবস্থায় স্বাধিন ভাবে বিচরণ করছে। এখানে ময়ূরের ফার্ম ও উট পাখির ফার্ম গড়ে তোলা হয়েছে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ তথা Biodiversity এর সংরক্ষণের কাজ চলছে। এখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিদিন পর্যটক আসে। তাদের জন্য আমরা বিনোদনের যথেষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। শিশুদের জন্য শিশু পার্ক গড়ে তোলা হবে। এখন কেবল ট্যুরিষ্টের জন্য রিপ্রেসমেন্ট কর্ণার রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার অারো উন্নতি করা হবে। তাদের এই পরিকল্পনার হেতু জানতে চাইলে তারেকুর রহমান বলেন, আমার বাবা মরহুম মাষ্টার নজির আহমদ তিনি একজন প্রকৃতিপ্রেমি ও শিক্ষানুরাগী ছিলেন। প্রকৃতির প্রতি খুব মোহমায়া ছিলো তার। আমাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাবার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে নাপোড়া অর্গানিক ইকো ভিলেজ গড়ে তোলা হচ্ছে। আমরা চাচ্ছি নাপোড়া’র বাঁশখালীতে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের একটি শ্রেষ্ট পর্যটনস্পট হিসেবে গড়ে তুলতে। অদূর ভবিষ্যতে এখানে অান্তর্জাতিক পর্যটকদের ভিড় জমবে। সারা বিশ্বে বাঁশখালীকে পরিচিত করার জন্য ইকো ভিলেজ তথা ইকোট্যুরিজম কাজ করে যাবে। ইতোমধ্যে এটি তারেক পার্ক নামে বেশ পরিচিত লাভ করছে যদিওবা তারমতে লোক মুখে প্রচারিত নাম। তারেকুর রহমান বলেন ‘আসলে এটাকে পার্ক বললে ঠিক হবেনা, এটি একটি পরিবেশবান্ধব এলাকা যা নাপোড়া অর্গানিক ইকো ভিলেজ নামে পরিচিত।’


চট্টগ্রাম থেকে যেভাবে যাবেনঃ চট্টগ্রাম শহর থেকে বাঁশখালীর নাপোড়া বাজারের দক্ষিণে মরহুম মাষ্টার নজির আহমদ ডিগ্রী কলেজ ষ্টেশনে নেমে, সোজা পূর্ব দিকে ২-৩ কিলোমিটার অদূরে এই পর্যটনস্পটের অবস্থান।